থাইল্যান্ডের শ্রমবাজার উন্মুক্তের হাতছানি: দ্বিপাক্ষিক সমঝোতায় নতুন দিগন্ত
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতি থাইল্যান্ডের শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত হলেই দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ শুরু করতে চায় থাই সরকার। সম্প্রতি দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফয়েজ মুর্শিদ কাজীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ আশাবাদের কথা জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের শ্রমমন্ত্রী ত্রিনুচ থিয়েনথং।
বৈঠকে থাই শ্রমমন্ত্রী বলেন, এমওইউ সম্পন্ন হলে নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ সম্ভব হবে। তিনি থাইল্যান্ডের বর্তমান শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় নিরাপদ ও টেকসই অভিবাসন ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জানান, ঢাকা নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত পদ্ধতিতে কর্মী পাঠাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি বাংলাদেশের বিদ্যমান ডিজিটাল শ্রম ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে দেখতে থাই কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের পক্ষ থেকে থাই শ্রমমন্ত্রীকে ঢাকা সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও পৌঁছে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র সংঘাতের জেরে বিপুল সংখ্যক কম্বোডিয়ান শ্রমিক ফিরে যাওয়ায় দেশটিতে যে তীব্র শ্রমিক সংকট তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল সুযোগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে থাইল্যান্ডের সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে। ১৯৫০-এর দশকে যখন এই অঞ্চল ব্রিটিশ শাসন পরবর্তী পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন থেকেই আঞ্চলিক বাণিজ্যে থাইল্যান্ড ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পরপরই থাইল্যান্ড বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচনা করে।
বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশ মূলত থাইল্যান্ড থেকে কারিগরি শিক্ষা ও কৃষি প্রযুক্তিতে সহায়তা পেলেও শ্রমবাজারের বিষয়টি ছিল উপেক্ষিত। আশির দশকে যখন মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়, তখন থেকেই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ১৯৯০-এর দশকে থাইল্যান্ডে অনানুষ্ঠানিক পথে অনেক বাংলাদেশি কর্মী কাজ করলেও গত এক দশক ধরে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল। ২০২৫ সালে এসে সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সফল পরিণতি দেখা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান মূলত নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে ২০২৪-২৫ সালের বর্তমান সংস্কারপন্থী সরকারের আমলে শ্রমবাজারের বৈচিত্র্যকরণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর 'উত্তম চর্চা' অনুসরণের মাধ্যমে থাইল্যান্ডে কর্মী পাঠানো হলে তা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, থাইল্যান্ডে কম্বোডিয়ান শ্রমিকদের শূন্যস্থান পূরণে দক্ষ ও পরিশ্রমী বাংলাদেশি কর্মীরা প্রথম পছন্দ হতে পারে। এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং দুই দেশের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
সূত্র: ১. প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)। ২. ব্যাংককস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও থাই শ্রম মন্ত্রণালয় প্রেস নোট। ৩. বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড কূটনৈতিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক দলিল (১৯৭২-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |